সিরিয়ায় আবারও প্রাণঘাতী গোষ্ঠীগত সহিংসতার ঢেউ শুরু হয়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এমন একসময়ে এসব সংঘাত ঘটছে, যখন নতুন সরকার বিভক্ত দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
গত রোববার (১৩ জুলাই) দ্রুজ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দক্ষিণ সিরিয়ায় দ্রুজ মিলিশিয়া ও সুন্নি বেদুইন যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এটি এখনো চলছে।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার ইসরায়েল সিরিয়ায় হামলা চালায়। যদিও আগে থেকেই তারা দেশটিতে মাঝেমধ্যে হামলা চালিয়ে আসছিল। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ও সিরিয়ার সরকারপন্থী বাহিনীকে দমন করতে এ হামলা চালিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সিরিয়ার সরকারপন্থী বাহিনীগুলো দক্ষিণাঞ্চলের সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বলেছে, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে শুধু সুয়েইদাতেই গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন।
সুয়েইদা প্রদেশে গত এপ্রিল ও মে মাসে প্রথমবারের মতো রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়। তখন দ্রুজ যোদ্ধাদের সঙ্গে সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতে ৩০ থেকে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দ্রুজ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশটিতে এটাই দ্বিতীয় বড় সংঘাত।
গত মার্চে সিরিয়ার উপকূলীয় প্রদেশগুলোতেও ভয়াবহ সংঘাত হয়। সেই সংঘাতে শত শত আলাউতি সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হন। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এ সম্প্রদায়ের একজন সদস্য।
ভয়াবহ সহিংসতা ও ইসরায়েলের তীব্র হামলার কারণে সিরিয়ায় নতুন সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক দশকের বেশি সময়ের গৃহযুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতে ও ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের ক্ষমতা দখলের মধ্যেই এ আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট ও সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতা আহমেদ আল-শারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।