সাধারণত প্রতিবছর ঈদের সময় মুরগির বাচ্চার চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এবারে ঈদ উৎসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টির প্রকোপ। বৃষ্টি বেশি হওয়ায় মুরগির বাচ্চার চাহিদা কমে গেছে। কারণ, অনেক হ্যাচারিতে পানি উঠেছে। তারা কেউ এখন আর মুরগির বাচ্চা নিতে চাচ্ছে না। এবার ঈদের আগে থেকেই অবশ্য বাচ্চার দাম পড়ে গেছে। গত এপ্রিল মাস থেকেই আমরা লোকসানে আছি। এর প্রধান কারণ অতিরিক্ত সরবরাহ। গত বছর হ্যাচারি পর্যায়ে বাচ্চার দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭০ টাকা। দাম বেশি পাওয়ায় সবাই এবার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
গতবার চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে মোটামুটি একটি ভারসাম্য ছিল। এর ফলে আমরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছিলাম। গত বছর সপ্তাহে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ। কিন্তু এবার তা বেড়ে ২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এর বিপরীতে চাহিদা হচ্ছে ১ কোটি ৮০ লাখের মতো। অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ অতিরিক্ত বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। এদিকে চাহিদা কমে গেলেও উৎপাদন কিন্তু বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই অনেক ছোট হ্যাচারি ক্ষতি বহন করতে পারছে না। বন্ধের পথে রয়েছে অনেক হ্যাচারি।
এবারে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এর বিপরীতে চাহিদা মাত্র ৫ শতাংশ বেড়েছে। তাহলে কীভাবে দাম ঠিক থাকবে? আমার প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট অ্যাগো লিমিটেডে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াইনি। ছয় বছর ধরে প্রায় একই রকম হারে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করছি আমরা। সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই লাখ বাচ্চা উৎপাদন করতে পারি আমরা। কিন্তু গত তিন মাসে আমাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। প্রতি মুরগির বাচ্চায় আমরা এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কম পাচ্ছি।
বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের একটি ছক তৈরির কথা চিন্তা করা হচ্ছে, তা ছাড়া মুরগির দাম নির্ধারিত হয়ছিল ২০২৩ সালে। সেটা পুনর্নির্ধারণ করা নিয়েও কাজ হচ্ছে।
শাহ ফাহাদ হাবিব: সেক্রেটারি, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)।